দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ‘নাটকীয়ভাবে’ বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে সরকারের আয় এবং বেড়েছে আমদানি ব্যয়।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো পণ্য আনার পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়া। আগে তুলনামূলক সরাসরি পথে পণ্য ইরানে আসত। এখন বিকল্প দীর্ঘ পথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, ফলে খরচও বেড়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটির তেল বিক্রিও আগের পর্যায়ে নেই। এতে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের আয়ও কমে গেছে। আগে আমরা তেল বিক্রি করতাম, এখন তা পারছি না।
যুদ্ধের সময় শিল্পকারখানায় হামলার কারণে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান পেজেশকিয়ান। তার ভাষ্য, অনেক কারখানা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার আগের মতো কর আদায় করতে পারছে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা কারখানাগুলো থেকে কর আদায় করতে পারছি না। শুধু তা-ই নয়, তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের অর্থও দিতে হচ্ছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় দেশটির নেতৃত্ব, সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই সংঘাতে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তৎপরতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। একপর্যায়ে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সঙ্গে জাহাজ পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
এই সংকট বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের পর দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা দ্রুত বেড়েছে, অথচ সরকারের আয় কমে গেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
যে আই